ঢাকা–৬ আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক হোসেন মনে করেন, নির্বাচনে বিজয় কোনো ব্যক্তিগত অর্জন নয়। বরং এটি জনগণের দেওয়া একটি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। জনগণের আস্থা রক্ষা করে তাঁদের জন্য কাজ করাই এখন তাঁর প্রধান লক্ষ্য। শনিবার ১৪ ফেব্রুয়ারি ঢাকার ওয়ারী এলাকায় ঢাকা–৬ আসনের প্রধান নির্বাচনী কার্যালয়ে বিএনপির নিরঙ্কুশ বিজয় এবং খালেদা জিয়ার রূহের মাগফিরাত কামনায় আয়োজিত দোয়া মাহফিলে তিনি এ মন্তব্য করেন।
ইশরাক হোসেন বলেন, জনগণ যে দায়িত্ব তাঁর ওপর দিয়েছে, সেটিকে তিনি ‘পবিত্র ঈমানি দায়িত্ব’ হিসেবে দেখেন। নির্বাচনের ফল ঘোষণার সময় সাময়িক আনন্দ থাকলেও বিষয়টিকে উদ্যাপনের সুযোগ হিসেবে দেখার কোনো অবকাশ নেই। বরং জনগণের জন্য কাজ শুরু করাই এখন প্রধান কাজ। তিনি আশ্বস্ত করেন, বাংলাদেশ হবে জনগণের বাংলাদেশ, যেখানে জনগণের স্বার্থবিরোধী কোনো কর্মকাণ্ডকে প্রশ্রয় দেওয়া হবে না। দলের নাম ব্যবহার করে কেউ অন্যায়ভাবে কাউকে ক্ষতি করলে, চাঁদাবাজি বা অবৈধ কোনো দাবি করলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ ক্ষেত্রে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণ করা হবে।
এলাকার সন্ত্রাস, মাদক ব্যবসা ও চাঁদাবাজিসহ সব ধরনের অবৈধ কার্যকলাপ বন্ধ করতে চাইলে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি উন্নত হবে এবং বসবাসের জন্য নিরাপদ পরিবেশ গড়ে তোলা সম্ভব হবে, বলেন তিনি। কোনো সন্ত্রাসী বা মাদক ব্যবসায়ীকে ভবিষ্যতে প্রশ্রয় দেওয়া হবে না এবং এসব কর্মকাণ্ডে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতি প্রসঙ্গে ইশরাক হোসেন বলেন, দীর্ঘদিন ধরে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ না হওয়ায় অর্থনীতি স্থবির হয়ে পড়েছে। তিনি বিশেষভাবে রমজান মাসকে কেন্দ্র করে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্য নিয়ন্ত্রণে রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, শ্রমজীবী ও সীমিত আয়ের মানুষের ওপর অতিরিক্ত চাপ পড়বে না এবং বাজারে কোনো ধরনের সিন্ডিকেট সৃষ্টি হবে না, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানান।
ঢাকার দক্ষিণাঞ্চলের নির্বাচনের ফলাফল প্রসঙ্গে নবনির্বাচিত এমপি বলেন, ভোটার উপস্থিতির হার কম হওয়ায় ফলাফল প্রত্যাশার তুলনায় সন্তোষজনক হয়নি। তিনি বলেন, কেন্দ্রভিত্তিক তথ্য ও ভোটারদের বিভিন্ন দিক পর্যালোচনা করে ভোটার উপস্থিতি কম হওয়ার কারণ নির্ণয় করা হবে। এই অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে দল পুনর্গঠন ও সুসংগঠিত করার পরিকল্পনা গ্রহণ করা হবে।
এলাকার নাগরিক সমস্যার মধ্যে গ্যাস সংকটকে প্রধান অগ্রাধিকার হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, সরকার গঠনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বৈঠক করে দ্রুত এই সমস্যার সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হবে। এলাকার বিভিন্ন মহল্লা ঘুরে মানুষের সঙ্গে কথা বলে গ্যাস সংকটকে বড় সমস্যা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য বলেন, নির্বাচনী প্রচারণার মতোই নিয়মিত কর্মসূচির মাধ্যমে বিভিন্ন ওয়ার্ড ও মহল্লা পরিদর্শন করা হবে। রাস্তাঘাটের অবস্থা, পরিবেশ ও স্থানীয় সমস্যাগুলো সরেজমিনে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি দলের নেতাকর্মীদের সংযত আচরণের আহ্বান জানিয়ে বলেন, দলের সুনাম ক্ষুণ্ন হয় এমন কোনো কর্মকাণ্ড বরদাশত করা হবে না। এছাড়া গাছ লাগানো, খাল পরিষ্কারসহ বিভিন্ন সামাজিক কর্মসূচির মাধ্যমে জনগণের পাশে থাকারও আহ্বান জানান।
ইশরাক হোসেন বলেন, যাঁরা তাঁকে ভোট দিয়েছেন বা দেননি, সবাই তাঁর কাছে সমান। একজন জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত হওয়ার পর ওই এলাকার সব নাগরিকের দায়িত্ব নেওয়াই রাজনীতির মূলনীতি। জনগণ তাঁর ওপর যে আস্থা রেখেছে, তার যথাযথ প্রতিদান দিতে পারার জন্য তিনি সবার দোয়া কামনা করেন।
অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন ঢাকা–৭ আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য হামিদুর রহমান, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপি’র যুগ্ন আহবায়ক কাজী আবুল বাশার, সাইদুর রহমান মিন্টু, আব্দুস সাত্তার, মকবুল ইসলাম খান টিপু, জহির উদ্দিন তুহিন, সুমন ভূঁইয়া, ইরফান আহমেদ, ফাহিম মেহেদী হাসান হিমেল, মুকিদুল হাসান রঞ্জু, হাজী কামাল হোসেন, রেহানা ইয়াসমিন ডলি, মোজাম্মেল হক মুক্তা, হাজি লিয়াকত আলি, সাব্বির আহমেদ আরেফ, আব্দুল কাদের, মামুনুর রশিদ অপু, শেখ আজিজুল ইসলাম ও দেলোয়ার হোসেন প্রমুখ।