আগামীকাল একযোগে অনুষ্ঠিত হবে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও বহুল আলোচিত গণভোট। ইতোমধ্যে সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে নির্বাচন কমিশন। দেশজুড়ে কেন্দ্রে কেন্দ্রে পৌঁছে গেছে ব্যালট পেপার, ব্যালট বাক্স, সিলসহ প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম। দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রিসাইডিং ও পোলিং কর্মকর্তারাও নিজ নিজ কেন্দ্রে অবস্থান নিয়েছেন।
এবারের নির্বাচনে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রার্থী ও স্বতন্ত্র প্রার্থীরা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। পাশাপাশি নির্ধারিত প্রস্তাবের পক্ষে বা বিপক্ষে মত জানাতে ভোটাররা অংশ নেবেন গণভোটে। ফলে প্রতিটি কেন্দ্রে থাকবে দ্বৈত ব্যালটের আয়োজন। নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, ভোটগ্রহণ সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত নিরবচ্ছিন্নভাবে চলবে।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে মাঠে থাকবে পুলিশ, র্যাব, বিজিবি ও আনসার সদস্যরা। গুরুত্বপূর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। আচরণবিধি প্রতিপালনে তৎপর থাকবেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটরা। কোথাও অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও জানিয়েছে কমিশন।
ভোটারদের মধ্যেও দেখা যাচ্ছে উৎসবের আমেজ। বিভিন্ন এলাকায় চায়ের দোকান থেকে সামাজিক পরিসরে ভোট নিয়ে আলোচনা চলছে। প্রথমবারের মতো ভোট দিতে যাওয়া তরুণ ভোটারদের মধ্যেও রয়েছে আলাদা আগ্রহ ও প্রত্যাশা। ভোটার উপস্থিতির হার নিয়েও রয়েছে কৌতূহল।
ভোটগ্রহণ শেষে প্রতিটি কেন্দ্রে প্রকাশ্যে গণনা সম্পন্ন হবে এবং ফলাফল দ্রুত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হবে। দেশি-বিদেশি পর্যবেক্ষকরাও পুরো প্রক্রিয়া পর্যবেক্ষণ করবেন।
সব মিলিয়ে আগামীকাল দেশের গণতান্ত্রিক অভিযাত্রার এক গুরুত্বপূর্ণ দিন। সংসদ নির্বাচন ও গণভোট—দুটি সিদ্ধান্তেই নির্ধারিত হবে আগামী দিনের রাজনৈতিক ও নীতিগত দিকনির্দেশনা। ভোটের মাধ্যমেই জনগণ জানিয়ে দেবেন তাদের চূড়ান্ত রায়।
ভোট উপলক্ষে ঘোষিত ছুটিকে কেন্দ্র করে এরই মধ্যে ঢাকা ছাড়তে শুরু করেছেন অস্থায়ী বাসিন্দারা। অনেকে নিজ নিজ নির্বাচনী এলাকায় ভোটাধিকার প্রয়োগের জন্য গ্রামে ফিরেছেন। বাস, লঞ্চ ও ট্রেনে দেখা গেছে বাড়তি চাপ। বিশেষ করে সদরঘাট, গাবতলী ও সায়েদাবাদ এলাকায় যাত্রীদের ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো।
রাজধানীতে কর্মসূত্রে বসবাস করা হাজারো মানুষ ভোটের সময়টিকে পরিবারের সঙ্গে কাটানোর সুযোগ হিসেবেও নিচ্ছেন। কেউ আগেভাগেই রওনা দিয়েছেন, কেউ শেষ মুহূর্তে টিকিট সংগ্রহ করে বাড়ির পথে। পরিবহন সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, গত দুই দিন ধরে আন্তঃজেলা রুটে যাত্রী সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।
তবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও প্রশাসন জানিয়েছে, যাত্রী চলাচল স্বাভাবিক রাখতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। মহাসড়কে যানজট এড়াতে নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। ভোটের আগে ও পরে নির্বিঘ্ন যাতায়াত নিশ্চিত করাই এখন সংশ্লিষ্টদের প্রধান লক্ষ্য।